মুক্তাগাছার মন্ডার ইতিহাস

 মুক্তাগাছার মন্ডা: বাংলাদেশে ময়মনসিংহ বিভাগে, ময়মনসিংহ জেলায় মুক্তাগাছা উপজেলার বিখ্যাত মিষ্টি, এটি প্রায় ২০০ বছর পূর্বে ১৮২৪ সালে রাম গোপাল পাল প্রথম তৈরি করেন। প্রথম মন্ডা তৈরি নিয়ে গোপাল পালের একটা গল্প প্রচলিত আছে। এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন,  তাঁর শিয়রে দাঁয়িয়ে এক সন্যাসী মন্ডা বানানোর আদেশ দিচ্ছেন, পরে স্বপ্নযোগে কয়েক রাতে সন্ন্যাসী তাঁকে মন্ডা বানানোর পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। শেষ নিয়মটি শেখানোর পর তাঁকে আশীর্বাদ করেন, “এই মন্ডা বানানোর জন্য একসময় তুই অনেক খ্যাতি অর্জন করবি। পুরো পৃথিবীতে তোর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে।”


মুক্তাগাছার মন্ডা


মন্ডা ইতিহাস: মুলত ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা জমিদার প্রধান এলাকা ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি, জমিদার বাড়ির পারিবারিক অনুষ্ঠানে ও পূজাপার্বনে ও বিভিন্ন প্রয়োজনেও জমিদার বাড়ীতে প্রচুর মিষ্টান্নের প্রয়োজন হতো।  ১২৩১ বঙ্গাব্দে(১৮২৪ খ্রিঃ) তৎকালীন মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর নিকট এই মন্ডা প্রস্তুত করে পেশ করেন মুক্তাগাছা থানার তারাটী গ্রাম নিবাসী গোপাল পাল এবং সে সময় থেকেই এই মন্ডার দ্বারা রাজবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক এবং অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হতো। ধিরে ধিরে এই মন্ডার খ্যাতি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যা বাংলাদেশের একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন।


মন্ডার আসল দোকান

তৈরি: দুধের ছানা ও চিনি/গুড় এই মিষ্টির প্রধান উপকরন। পাল বংশের পঞ্চম পুরুষ বর্তমানে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। দেশের বিভিন্ন এলাকাতে এই মিষ্টির (মন্ডা) যথেষ্ট পরিমান চাহিদা রয়েছে।


মন্ডা


কিভাবে পাওয়া যাবে: বাংলাদেশের কোন স্থানে এদের কোন ব্র্যাঞ্চ বা শাখা নেই। তাই প্রকৃত একনম্বর (গোপাল পাল বংশের) মন্ডা খেতে চাইলে অবশ্যই মুক্তাগাছার মূল দোকান থেকেই নিয়ে যেতে হবে।




মন্ডার মুল্য প্রতি কেজি: 
চিনির মন্ডা-৫৬০ টাকা।
গুড়ের মন্ডা-৬৬০ টাকা।


আপনিও ঘুরে আসতে পারে ময়মনসিংহ মুক্তাগাছায় দেখে আসুন জমিদার বাড়ি ও খেয়ে আসুন বিখ্যাত মন্ডা।